
জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটে মারা গেছেন। ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সিরিজটির সহশিল্পী ও ভক্তরা।
বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটি জানিয়েছে, মিটের প্রতিনিধি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ব্রাউনসভিল পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধরন এখনো তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিটের প্রতিনিধি বলেন, প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন মিটে। সিরিজটিতে ওয়াল্টার হোয়াইটের ভূমিকায় ছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক কিশোরের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পান মিটে। বাস্তব জীবনেও তিনি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে সহায়তা করেছিল।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড পান মিটে। ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল অভিনীত সিরিজটি একাধিক এমি পুরস্কারও জিতেছে।
মিটের মৃত্যুতে ইনস্টাগ্রামে শোক প্রকাশ করেছেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তিনি জানান, ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে মিটেকে যখন নির্বাচন করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। শুরু থেকেই আনন্দ ও উদ্দীপনা নিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।
ক্র্যানস্টন লেখেন, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিজটির প্রথম পর্বের শুটিং শুরুর সময় মিটে অভিনয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন না। তবে ধীরে ধীরে তাঁকে একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে দেখেছেন তাঁরা।
প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের অধিকার আদায়ে মিটের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন ক্র্যানস্টন। তাঁর ভাষ্য, সেরিব্রাল পালসিকে কখনোই নিজের সীমাবদ্ধতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেননি মিটে। তাঁর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি ছিল উল্লেখ করে ক্র্যানস্টন লেখেন, তাঁকে হারানো বড় ক্ষতি। বন্ধুকে মিস করবেন বলেও জানান তিনি।
সিরিজটির আরেক অভিনেতা অ্যারন পলও শোকবার্তা দিয়েছেন। মিটেকে বন্ধু হিসেবে স্মরণ করে তিনি লেখেন, তাঁকে খুব মিস করবেন। একই সঙ্গে বার্তাটি যাঁরা পড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশে ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা ও একাকিত্বের অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। তাঁর বার্তায় কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার গুরুত্বও উঠে আসে।
১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে জন্মগ্রহণ করেন আরজে মিটে। তাঁর পুরো নাম রয় ফ্রাঙ্ক মিটে তৃতীয়। জন্মের পর শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতার কারণে তাঁর মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে দত্তক নেন রয় ফ্রাঙ্ক মিটে ও ডায়না মিটে। তিন বছর বয়সে তাঁর সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হয়।
শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন মিটে। কিশোর বয়সে তাঁর মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলসে পাড়ি জমান তিনি। ছোট চরিত্রে অভিনয় ও নিয়মিত অডিশন দেওয়ার মধ্য দিয়ে একসময় ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ সুযোগ পান। এ সিরিজই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর বাইরে ‘হানা মন্টানা’, ‘ভেগাস’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘রোবট চিকেন’, ‘দ্য ক্লোজ’ ও ‘নাউ অ্যাপোক্যালিপ্স’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘হাউস অব লাস্ট থিংস’, ‘দ্য রিকল’, ‘রিভারস রান রেড’ ও ‘দ্য ওকে রুম’-সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও বিনোদনজগতে তাঁদের বাস্তবসম্মত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছেন মিটে। তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের শুভেচ্ছাদূত ছিলেন। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তায় ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি।


