
বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসার বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা বিক্রির মাধ্যমে নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে চায় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ জানিয়েছেন, শুধু এআই সহকারী নয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের এআইভিত্তিক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় জুকারবার্গ বলেন, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার সংযোগসুবিধা, ব্যবসায়িক এআই সহকারী, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিসেবা দেওয়ার সুযোগ দেখছে মেটা। তার মতে, এসব সেবা ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপনের বাইরে প্রতিষ্ঠানের নতুন আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে মেটার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন। এর পাশাপাশি গ্রাহক সদস্যপদ থেকেও কিছু আয় হয়। তবে প্রথম ধাপে বিদ্যমান বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য এআই সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রেও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার মতো ফলাফলের ভিত্তিতে অর্থ নেবে মেটা।
জুকারবার্গ বলেন, মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী কোটি কোটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি জানান, নিজেদের ব্যবহারের জন্য তৈরি সফটওয়্যার উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির প্রযুক্তিও ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হতে পারে। এতে ছোট ও বড়—উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানই উপকৃত হবে।
তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে প্রযুক্তিসেবা বিক্রি করা মেটার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, এ ধরনের বাজারে সফল হতে ভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন।
কম্পিউটিং সক্ষমতা বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য সব অবকাঠামো ব্যবহার করতে চায় না মেটা। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত এআই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিসরের কম্পিউটিং অবকাঠামো প্রয়োজন হবে বলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যক্তিগত এআই সহকারী, স্মার্ট চশমাভিত্তিক নতুন সেবা এবং এআই মডেলের সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নতুন অ্যাপ তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে মেটা। ইতোমধ্যে কেনাবেচা, দলভিত্তিক যোগাযোগ ও খেলাধুলার জন্য কয়েকটি নতুন অ্যাপ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে আরও নতুন সেবা আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ।


