
পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়। নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের এ অবস্থা দেখা দেয়। ইসলামী শরিয়তে ঋতুস্রাব চলাকালে নারীদের নামাজ আদায় করা ফরজ নয়। ঋতুস্রাব শেষ হয়ে পবিত্রতা অর্জনের পর আবার নামাজ আদায় করতে হয়।
পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর ঠিক কখন থেকে নামাজ আদায় করতে হবে—এ বিষয়ে আলেমরা সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলেছেন।
আলেমদের মতে, যে ওয়াক্তে পিরিয়ড বন্ধ হবে, ওই ওয়াক্তের নামাজের সময় যদি গোসল করে নামাজের তাকবিরে তাহরিমা বলার মতো সময় অবশিষ্ট থাকে, তাহলে ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা আবশ্যক। তবে গোসল করার পর নামাজের তাকবিরে তাহরিমা বলার মতো সময়ও যদি অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা আবশ্যক নয়। পরবর্তী ওয়াক্ত থেকে নামাজ আদায় করতে হবে।
বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায়। ধরা যাক, জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়। কোনো নারীর পিরিয়ড যদি দুপুর ৩টায় বন্ধ হয় এবং তার কাছে পানি থাকে, তাহলে তিনি গোসল করে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। আর পানি না থাকলে শরিয়তসম্মতভাবে তায়াম্মুম করে হলেও ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে হবে।
অন্যদিকে, যদি পিরিয়ড বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে বন্ধ হয় এবং জোহরের ওয়াক্ত শেষ হতে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকে, তাহলে ওই সময়ের মধ্যে গোসল করে নামাজের তাকবিরে তাহরিমা বলার মতো সময় না থাকলে জোহরের নামাজ তার জন্য আবশ্যক হবে না। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হলে গোসল করে আসরের নামাজ আদায় করতে হবে।
অর্থাৎ, পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর শুধু গোসল করাই নয়, সংশ্লিষ্ট ওয়াক্তের নামাজের সময়ের মধ্যে নামাজ শুরু করার মতো পর্যাপ্ত সময় আছে কি না—সেটিও বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা মাজহাবভেদে ভিন্নতা থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।


