
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি গোষ্ঠীর আশ্রয়ের অভিযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট।
কেন বাড়ছে সংঘর্ষ?
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তটি ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এ সীমান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান করে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) দেশটির ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৭৫টি সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
সামরিক সক্ষমতায় কে এগিয়ে?
রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে পাকিস্তান।
পাকিস্তান
সক্রিয় সেনা সদস্য: প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার
সাঁজোয়া যান: প্রায় ৬ হাজার
আর্টিলারি (ভারী কামান): ৪,৬০০+
যুদ্ধবিমান: প্রায় ৪৬৫টি
হেলিকপ্টার: প্রায় ২৬০টি
পারমাণবিক ওয়ারহেড: আনুমানিক ১৭০টি
আফগানিস্তান (তালেবান প্রশাসন)
যোদ্ধা: প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার
সীমিত সংখ্যক পুরোনো সাঁজোয়া যান
কার্যকর বিমান বাহিনী নেই
পারমাণবিক অস্ত্র নেই
গেরিলা যুদ্ধ ও আত্মঘাতী কৌশলে অভিজ্ঞতা বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশপথ ও ভারী অস্ত্রের ক্ষেত্রে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে শক্তিশালী। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে তালেবান গেরিলা লড়াইয়ে দক্ষ।
পরিস্থিতি কোথায় যেতে পারে?
বিশ্লেষকদের ধারণা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে আফগানিস্তান সামরিকভাবে বড় চাপে পড়বে। তবে সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ ও সীমিত সংঘর্ষ চলতে থাকলে পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
তারা আরও বলছেন, টিটিপি ইস্যুতে সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: রয়টারার্স


