
তুরস্কে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হওয়ার পর কক্ষে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা এক আত্মীয় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিন বাংলাদেশীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। ফেনী জেলার এক যুবকও এ ঘটনায় মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন (২৬)। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে একসঙ্গে বসবাস করতেন চার বাংলাদেশী। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সেহরি খাওয়ার পর ভোরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারেক মিয়া, সাব্বির ও অপর যুবকের মৃত্যু হয়। লিটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমান। দেড় বছর আগে তিনি ছেলে সাব্বিরকে সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই।
সাব্বিরের খালা লুৎফা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মরদেহ দেশে আনার বিষয়টি নিয়ে আমরা দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে মরদেহ আনা সম্ভব নয়। সবার কাছে দোয়া চাই।’


