
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রাতের নফল ইবাদত তথা তাহাজ্জুদ নামাজের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাতের নির্জনতায় আল্লাহর ইবাদতে সময় কাটানো মুমিনের আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। তবে তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এসব বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।
আরবি ‘হুজুদ’ শব্দ থেকে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের উৎপত্তি। আভিধানিকভাবে এর অর্থ ঘুম থেকে জেগে ওঠা। ইসলামী পরিভাষায়, রাতে ঘুম থেকে উঠে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তা তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত। সাধারণভাবে এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত রাতের নফল নামাজ আদায় করা যায়। রাতের শেষ তৃতীয়াংশকে এ ইবাদতের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে প্রচলিত ৩ ভুল ধারণা
১. ঘুম না হলে তাহাজ্জুদ পড়া যায় না
অনেকের ধারণা, রাতে কিছুক্ষণ ঘুমানো ছাড়া তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা যায় না। তাহাজ্জুদের সঙ্গে ঘুম থেকে জেগে ওঠার বিষয়টি জড়িত থাকলেও, রাতে না ঘুমিয়ে নফল নামাজ আদায় করলে তা রাতের নফল ইবাদত বা কিয়ামুল লাইল হিসেবে গণ্য হয়। তবে পরিভাষাগতভাবে তাহাজ্জুদ বলতে সাধারণত ঘুম থেকে উঠে আদায় করা রাতের নামাজকেই বোঝানো হয়।
২. একবার তাহাজ্জুদ শুরু করলে সারা জীবন পড়তে হয়
কেউ কেউ মনে করেন, একবার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া শুরু করলে তা সারা জীবন নিয়মিত আদায় করতে হবে। অন্যথায় গুনাহ হবে। এ ধারণা সঠিক নয়। তাহাজ্জুদ নফল ইবাদত, ফরজ নয়। নিয়মিত আদায় করলে সওয়াবের আশা করা যায়, তবে কোনো কারণে তা আদায় করতে না পারলে সাধারণভাবে গুনাহ হয় না।
৩. তাহাজ্জুদ পড়লে জিন আসে বা ভৌতিক ঘটনা ঘটে
রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করলে জিন আসে কিংবা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে—এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ইসলামী ভিত্তি নেই। এগুলো কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন ভয় থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। বরং রাতের নির্জনতায় আল্লাহর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে একজন মুমিন আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।
তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে ভুল ধারণা দূর করে এর সঠিক নিয়ম ও গুরুত্ব জানা প্রয়োজন। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত এ নফল ইবাদত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে ইবাদতকে ঘিরে অমূলক ভয় বা কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে ধর্মীয় বিষয়গুলো বোঝা উচিত।


