
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—জুলাই যোদ্ধাদের আইনি দায়মুক্তি দিতে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত গণ-অভ্যুত্থানের সব কর্মকাণ্ডের জন্যও জুলাই যোদ্ধাদের সেভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে। সম্প্রতি জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর দাবিটি জোরালো হয়ে ওঠে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও ৪ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির জন্য তিন দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল। সরকার এই দাবিটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে শেষ হয়েছে এবং আগামীকাল বুধবারই আদালতে এই মামলার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপদেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে কেবল দায়মুক্তি নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভিন্ন গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য সহ্য করা হবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানানো হয়।


