
খুলনায় সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কমার্স কলেজের বিপরীতে ক্লিনিকটির নিজস্ব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার একপর্যায়ে বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুখোশ পরা ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। প্রথমে প্রবেশপথে অধ্যাপক ডা. মো. কুতুবউদ্দিন মল্লিকের চেম্বারের সামনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের চেম্বারের সামনের কাচ এবং ভেতরের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
এ সময় আত্মরক্ষার্থে চিকিৎসক দুজন সরে যান। পরে দুর্বৃত্তরা ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থাকা কাচও ভেঙে ফেলে। আকস্মিক হামলায় ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন।
ক্লিনিক থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর পায়ে হেঁটে বাবুখান রোডের দিকে চলে যায় তারা।
হামলার আগে ক্লিনিকের রিপোর্ট প্রদানকারী ইকবাল হোসেনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা সুরেশ রায় আহত হন।
ক্লিনিকের সুপারভাইজার কল্যাণী জানান, রাতে স্বাভাবিকভাবেই কাজ চলছিল। হঠাৎ মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি সামনে থেকে ভাঙচুর শুরু করে ক্যাশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় তাঁরা বাইরে চলে যান। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আবার ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁরা। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
ঘটনার পর ক্লিনিকের মালিকপক্ষের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত ব্যক্তিরাও হামলার কারণ নিয়ে কথা বলতে চাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


