
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থদাতা ও দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত একটি রহস্যময় ভবনকে ঘিরে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত একাধিক নথি ও ই-মেইল থেকে জানা গেছে, ভবনটিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘মসজিদ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত তার মালিকানাধীন লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে থাকা নীল-সাদা ডোরাকাটা ও সোনালি গম্বুজবিশিষ্ট কিউব আকৃতির ওই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সরকারি নথিতে এটিকে ‘মিউজিক রুম’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথিপত্রে দাবি করা হয় যে এপস্টেইন এটিকে নিজের ‘মসজিদ’ বলেও পরিচয় দিতেন।
প্রকাশিত নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ইসলামের পবিত্র স্থান কাবা শরিফের গিলাফ এবং কিসওয়া সংগ্রহ করেছিলেন। এসব নিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাবার গিলাফ ও কিসওয়া অত্যন্ত পবিত্র ও নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় নিদর্শন, যা ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। তাই এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভবনটির স্থাপত্য নিয়েও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এই দাবিগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


