
খুলনার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে গত এক বছরে মোট ৪৮টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১৪টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৩০টি শনাক্ত করা গেলেও বাকি ১৮টি মরদেহ পচে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৩৩ জন পুরুষ এবং ৭টি শিশুর মরদেহ রয়েছে।
নৌ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২টি, মার্চে ৪টি, এপ্রিলে ৩টি, মে মাসে ৬টি, জুনে ৬টি, জুলাইয়ে ৩টি, আগস্টে সর্বোচ্চ ৮টি, সেপ্টেম্বরে ৬টি, অক্টোবরে ৩টি, নভেম্বরে ৪টি এবং ডিসেম্বরে ২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা নৌ পুলিশ সুপার ডা. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও পিরোজপুর জেলা নিয়ে নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চল গঠিত। গত এক বছরে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ঘটনায় ১৪টি হত্যা মামলা, ২৬টি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এছাড়া মামলা ছাড়াই ৮টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলের নদীর পানি নোনা হওয়ায় এবং ড্যাম ও বৃষ্টির কারণে মরদেহ দ্রুত পচে যায়। সাধারণত তিন দিনের বেশি সময় পানিতে থাকলে মরদেহের টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। জোয়ার-ভাটার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মরদেহ ভেসে এসে এখানে পৌঁছায়। লাশ উদ্ধারের পর আমরা সারা দেশে পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য পাঠিয়ে থাকি।”
নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, “কখনো কখনো এক থেকে দুই দিনের নবজাতক শিশুর মরদেহও পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয় না। অথচ শিশু নিজে থেকে নদীতে আসেনি, তাকে কেউ না কেউ ফেলে গেছে। তাই আমরা এসব ঘটনাকেও হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ করছি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।”


