ইরানে ফের সামরিক হামলা চলানো হবে নাকি দেশটির সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথে এগোনো হবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার পথও বেছে নিতে পারেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয় ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী করবে অথবা আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।’
এ সময় ইরানের প্রতিনিধিদলের মাত্র একজন সদস্য ট্রাম্পের ভাষণ শুনছিলেন বলে প্রতিবেদন জানা গেছে। তবে একই দিনে জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও নিশ্চিত করেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরে উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং একটি পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, এই আলোচনা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে তারা আশা করছেন এবং মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন। তার দাবি, এই সংঘাত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে এবং ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠার নীতির কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বে বিভাজন আরও গভীর হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বৈশ্বিক সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘বৈশ্বিক সরকার’ মেনে নেবে না। এ সময় তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর জোর দেন।
ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটবে। এদিকে বুধবার নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠকের কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। চীনের কাছে এআই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব হারানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রযুক্তিটির নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। তার ভাষায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলা উচিত।
ইউএনজিএর ফাঁকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তিও সই করেন ট্রাম্প। এতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হলেও দ্বীপটির আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকারের পরিধি বাড়ানোর কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।
ভাষণের শেষদিকে কিউবার সরকারেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি এবং দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। এ সময় কিউবার প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানা গেছে।


