
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল-সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ওপর ‘লাইমলাইট’ একটু বেশি। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশেষ এক বার্তা দিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল। আজ আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে অস্ট্রিয়া তাই একটু বেশিই সতর্ক।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আর্জেন্টিনা দল ‘মিনি হাসপাতালে’ পরিণত হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তা বোঝার উপায় নেই। দুই ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো, গনসালো মন্তিয়েলের খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ঠিকই। তবে নিকোলাস ওস্তামেন্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মতো ফুটবলাররা তো আছেন রক্ষণভাগে। শুরুর একাদশে না খেলতে পারলেও বদলি হিসেবে অন্য কাউকে খেলানোর সুযোগ রয়েছেই। ডালাসে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক বলেন, ‘তাদের কোনো দুর্বলতা খুঁজে পাইনি। দল হিসেবে তারা অসাধারণ। দুই বা তিন ধরনের ভিন্ন কৌশলেও ফুটবলাররা খেলতে পারে।’
লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। রেকর্ড বই তছনছ করে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন মেসি। কেন তাঁকে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা বলা হয়, সেটা নিজের পারফরম্যান্সে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়ে রাংনিক বলেন, ‘তাদের দলে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি আছে। আমাদেরও দেখিয়ে দিতে হবে যে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল আমরা। আগামীকাল (আজ) নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।’
শুধু মেসিই তো নন, আছেন বাজপাখি নামে পরিচিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তারের মতো তারকারা আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে। আক্রমণভাগে মেসির পাশাপাশি লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেস, নিকো পাসরা আছেন। বলতে গেলে পরিপূর্ণ এক দল নিয়েই এবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নেমেছে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করছেন রাংনিক। অস্ট্রিয়া কোচ বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে নিয়মিত বিশ্লেষণ করছি। বলের দখলে থাকলে কী করতে হবে, বলের দখলে না থাকলে কী করতে হবে এবং সেট-পিসের সময় কী করতে হবে—এসব নিয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি তাদের হারানোর জন্য কী করতে হবে, সেটাও দলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’
লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ১৭ জুন কানসাসে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আলজেরিয়াকে। সেদিনই সান ফ্রান্সিসকোতে কয়েক ঘণ্টা পর জর্ডানের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জিতেছিল অস্ট্রিয়া। আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া দুই দলেরই পয়েন্ট ৩ হলেও ‘জে’ গ্রুপে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়া অবস্থান করছে দুইয়ে। তিন ও চারে রয়েছে জর্ডান ও আলজেরিয়া।
আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একাধিক রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে মেসিকে। যার মধ্যে দুটিতেই তিনি ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। ক্লোসা-মেসি দুজনেই বিশ্বকাপে ১৬টি করে গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তাঁরা। এখানেও তাঁদের মিলিয়ে দিয়েছে ১৬।


