
বিশ্বকাপের এবারের আসরে ফুটবলের দুই দানবের শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। সোমবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলের মুখ দেখতে পারেনি স্পেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার হিউস্টনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট হাতছাড়া করল পর্তুগালও।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে হোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর পর্তুগালের আক্রমণভাগ যেন আর জ্বলে উঠতে পারেনি। একই সঙ্গে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের মুখ দেখা হলো না তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক পর্তুগিজ সমর্থকের মনে প্রথমবারের মতো প্রশ্ন উঠেছে— কেন রোনালদোকে তুলে নিয়ে অন্য কোনো স্ট্রাইকারকে নামানো হলো না?
দলের কোচ অবশ্য দিয়েছেন সহজ এক জবাব, ‘যে ম্যাচে গোল প্রয়োজন, সেখানে বিশ্ব ফুটবলের সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়াটা কোনো যুক্তিতেই দাঁড়ায় না।‘
রোনালদোকে দায় না দিয়ে কোচ বরং আঙুল তুলেছেন লিড নেওয়ার পর দলের কৌশলের দিকে, ‘আমরা শুরুটা করেছিলাম দারুণভাবে। আমাদের খেলার মান, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিপক্ষের বক্সে ঢোকার ধরন— সবকিছুই ভালো ছিল। সাধারণত গোল করার পর সেই আবেগটাই দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এখানে হলো ঠিক তার বিপরীত।‘
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দলের ভুলগুলো তুলে ধরেন পর্তুগালের কোচ, ‘গোলের পর আমরা বরং বল দখলে রাখার দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ি। এতে কঙ্গোকে তাদের রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার এবং কাউন্টার অ্যাটাক সাজানোর সুযোগ করে দিই আমরা। ফলে হারিয়ে যায় আমাদের আক্রমণের গভীরতা। আর তাতেই সুবিধা পেয়ে যায় কঙ্গো।’
ম্যাচের আগের দিন রোনালদো তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে দেখেছেন হ্যাটট্রিক করতে। মঙ্গলবার রাতের জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে ১৬ গোল করে যুগ্মভাবে শীর্ষস্থানে বসেছেন মেসি।
তবে সব মিলিয়ে পর্তুগালের জন্য পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি হতাশার নয়। পয়েন্ট খোয়ালেও, এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের সেরা আট তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ পাবে। এমন নিয়মে চার পয়েন্টই হতে পারে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
পর্তুগালের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার বিকালে, প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা উজবেকিস্তান।


