
একটি দীর্ঘ পথচলার শেষ। মাঠজুড়ে উৎসব, মুখে হাসি, অথচ চোখের কোণে জল। আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে এমনই এক আবেগঘন রাত কাটালেন লিওনেল মেসি।
বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর বিদায়ী বক্তব্যে বারবার স্মৃতিতে ফিরে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ ও সমর্থকদের। একপর্যায়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে।
মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে ছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজের শেষ রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোলে সহায়তা করার পর পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে ম্যাচের পর মাইক হাতে নেওয়ার মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে রাতের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য। শুরুতে হাসিমুখে কথা বললেও একপর্যায়ে মেসির চোখ ভিজে ওঠে। জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবার আগে তার প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা মনে পড়ার কথাও জানান তিনি।
মেসি বলেন, “কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)।”
দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের সঙ্গে কাটানোর পর এবার সত্যিই সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছেন মেসি। বিদায়ের সিদ্ধান্ত তার জন্য সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামার অনুভূতিকে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই জায়গা থেকে সরে যাওয়া তার জন্য কতটা কঠিন।
মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।”
সতীর্থদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। তার মতে, জাতীয় দলের সতীর্থরা তার অনেক স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার মতো সাফল্যের কথা স্মরণ করে তাদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যের শেষ দিকে আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের গভীরতাও ফুটে ওঠে কথায়।
মেসি বলেন, “আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।”
মনুমেন্তালে মেসির এই বিদায়ী রাত ছিল শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়, আর্জেন্টিনার হয়ে তার দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়েরও শেষ অধ্যায়। সমর্থকদের ভালোবাসা, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর নিজের স্বপ্নপূরণের তৃপ্তি নিয়েই জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানালেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা।


