সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
শিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব | চ্যানেল খুলনা

শিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, চরিত্র গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। একজন অভিভাবক যখন সন্তানকে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাঠান, তখন পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যতের একটি বড় দায়িত্ব শিক্ষকের ওপর অর্পণ করেন। ফলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা শুধু একটি অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি শিশুর নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও শৈশবের ওপর গভীর আঘাত সৃষ্টি করে। আর এমন ঘটনা যদি কোনো দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসায় ঘটে, তাহলে এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজেও পড়ে।

ইসলামি দৃষ্টিতে শিশুর সুরক্ষা ও আমানতদারিতা

ইসলাম মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও আত্মমর্যাদার সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আলে ইমরান: ৫৭)। কোনো শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন গুরুতর জুলুম। কারণ এতে শুধু শিশুর শারীরিক ক্ষতিই হয় না, তার মানসিক নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদাও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই জুলুম কিয়ামতের দিন চরম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৭৮)

শিক্ষকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। একজন শিক্ষক যখন অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করেন, তখন তিনি শুধু প্রচলিত আইন ও নৈতিকতারই লঙ্ঘন করেন না; বরং অর্পিত দায়িত্বেরও খেয়ানত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা: ৫৮)।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৯৭)

সমস্যার মূল কারণ

শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্বল তদারকি, জবাবদিহির ঘাটতি, অনিরাপদ পরিবেশ এবং নৈতিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। তাই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।

ইসলামও অনৈতিকতার পথ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতার নিকটেও যেয়ো না।’ (সুরা আনআম: ১৫১)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩২)।

‘কাছেও যেয়ো না’—এই নির্দেশনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশও যতটা সম্ভব বন্ধ করতে হবে।

অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে

শিশুর যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা শিক্ষাব্যবস্থার একক সমস্যা নয়। সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার অজুহাতে কোনো অপরাধ ধামাচাপা দেওয়াও গুরুতর অন্যায়।

ন্যায়বিচারের মূলনীতি হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রতিরোধে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের করণীয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা।

১. শিশুর সুরক্ষা নীতিমালা:
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকতে হবে। শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবার কাছে এসব নীতিমালা পরিষ্কার থাকতে হবে।

২. একান্তে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা:
বন্ধ কক্ষ বা নির্জন স্থানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর একান্ত অবস্থান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিবেশ হওয়া উচিত দৃশ্যমান, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক।

৩. নিয়োগে যাচাই-বাছাই:
শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নয়, পূর্ববর্তী কর্মজীবন, আচরণ ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. আবাসিক ব্যবস্থায় তদারকি:
হোস্টেল, সিঁড়ি, করিডর ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে নজরদারির নামে শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৫. দায়িত্বশীল কর্মপরিবেশ:
আবাসিক শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ছুটি ও সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধি ও পেশাগত সীমারেখা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

৬. গোপন ও নিরাপদ অভিযোগের ব্যবস্থা:
শিক্ষার্থীরা যাতে ভয় বা লজ্জা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য সহজ, নিরাপদ ও গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর তা গোপন রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।

৭. অপরাধে জিরো টলারেন্স:
অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৮. অভিভাবকদের সচেতনতা:
সন্তানের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ভয়, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থান এড়িয়ে চলা কিংবা অন্য কোনো উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা গেলে অভিভাবকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে শিশুর সঙ্গে নিরাপদ ও চাপমুক্ত পরিবেশে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে হবে।

শিশুর শৈশব একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপরাধীর শাস্তি হলেও সেই মানসিক ক্ষত পুরোপুরি মুছে ফেলা কঠিন। তাই শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান, পেশা বা ধর্মীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো একটি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানোও যুক্তিসংগত নয়।

কওমি মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ কিংবা অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোথাও শিশুর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ থাকা উচিত নয়। শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি পরিবারের আমানত, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং পুরো সমাজের নৈতিক কর্তব্য।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

ইসলাম আরও সংবাদ

২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

স্বাধীনতা মহান আল্লাহর দান: একটি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা

বাংলাদেশে শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি

২০২৬ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাবনা

শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে হজে নেওয়া যাবে না: ধর্ম উপদেষ্টা

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।