
ঈদে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মীম খাতুন (১৭) নামের স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ হোসেন (১৮) নামের এক যুবক।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে স্টেডিয়াম পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সাথে জিহাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু ভালোবাসার সেই সংসার দেড় বছরও টিকল না।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। জিহাদ স্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ঈদের নামাজের পর তিনি নিজেই তাকে বাবার বাড়ি নিয়ে যাবেন। কিন্তু মীম তা মেনে না নিয়ে একপর্যায়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান।
নিহতের কাকি লিমা খাতুন জানান:
”আমার ভাতিজা বারবার তার স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। ফোন করেছে, বুঝিয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে ভেতরে ভেতরে একদম ভেঙে পড়েছিল।”
জিহাদের ছোট বোন অপর্ণা বলেন, “ভাইয়া অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছিল। কিন্তু ভাবি আসবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। সেই কষ্ট, অভিমান আর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ভাইয়া শনিবার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।”
খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, “সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ফোর্সসহ আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভিডিও কল সচল থাকা অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আমরা ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছি এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।”
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
একটি সামান্য পারিবারিক বিরোধ কীভাবে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সুখকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে—জিহাদের এই অকাল মৃত্যু যেন তারই এক নির্মম ও মর্মস্পর্শী উদাহরণ হয়ে রইল। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাজুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


