মাগুরায় শিশু রোগ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি শিশু। অথচ মাগুরা ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৪৫টি। ফলে বেড সংকটে অনেক শিশুকেই মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। বেড না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭ জন।
বর্তমানে হাসপাতালে মোট রোগী ৭৩০ জন, যার মধ্যে শিশু রোগীই ২৯৯ জন। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও কার্যকর বেড রয়েছে মাত্র ১৫০টি। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি বেড ব্যবহার করছে মাগুরা মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য বেড সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ১৮ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১২০২ জন শিশু। আলেয়া নামে একজন বলেন , আমাদের বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে এনে দেখলাম বেডই নেই। মেঝেতে শুইয়ে রাখতে হচ্ছে। গরমে ও কাঁদছে, আমরা কিছুই করতে পারছি না। এমন অবস্থায় খুব অসহায় লাগছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সেলিম রেজা নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা তার ওপর প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ফ্যান ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এমন পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টকর। মাগুরা ২৫০ শয্য বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এহসানুল হক মাসুম বলেন, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হামের রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসপাতালে দ্রুত বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।


