
কারও নাম ‘গ্রেনেড বাবু’, কারও ‘ট্যাংকি শাওন’। কেউ ‘চিংড়ি পলাশ’, আবার কেউ ‘বেজি আলামিন’ কিংবা ‘গলাকাটা রাজু’। মূল নামের চেয়ে এসব ডাকনামেই খুলনার অপরাধজগতের অনেকের পরিচিতি বেশি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ও আশপাশে তালিকাভুক্ত ১৮১ সন্ত্রাসীর তৎপরতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। এসব অপরাধীর অনেকের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের অপরাধ, কর্মকাণ্ড কিংবা বিশেষ কোনো ঘটনার সূত্র ধরে তৈরি হওয়া ডাকনাম।
ট্যাংকি শাওন নামে পরিচিত শেখ সাইদুর রহমান শাওনের নাম আলোচনায় আসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে রাখার ঘটনায়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গ্রেনেড বাবু নামে পরিচিত রনি চৌধুরী ওরফে বাবুর নামের সঙ্গে ‘গ্রেনেড’ শব্দটি যুক্ত হয় ২০০৪ সালে খুলনা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়রের গাড়িতে গ্রেনেড হামলার পর। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে ‘বি-কোম্পানি’ নামের একটি গ্রুপের উল্লেখ রয়েছে।
চিংড়ি পলাশ নামে পরিচিত পলাশ তালুকদারের বিরুদ্ধে চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ভয়ভীতি ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে বলে র্যাবের ভাষ্য।
অন্যদিকে বেজি আলামিন নামে পরিচিত আলামিনকে ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। দিঘলিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি দস্যুতা ও একটি সাধারণ মামলা রয়েছে। ছোটবেলার দুষ্টুমি ও ধূর্ততার কারণে তার ‘বেজি’ নামটি চালু হয় বলে পুলিশ জানায়।
আর গলাকাটা রাজু নামে পরিচিত রাজু মুন্সির নামের সঙ্গে ২০১৭ সালের একটি ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের পর ‘গলাকাটা’ শব্দটি যুক্ত হয়।
এ ছাড়া হাঁটার ধরন, গায়ের রং, অপরাধের ধরন কিংবা ব্যবহৃত যানবাহনের সূত্র ধরেও কারও নাম হয়েছে ‘ঠুণ্ডা শামীম’, ‘কালা রাজু’, ‘ব্ল্যাক রাজু’, ‘ঢাকাইয়্যা শামীম’, ‘পালসার সোহেল’, ‘ব্লেড বাবু’ ও ‘কাউয়া মিরাজ’।
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এম শাকিলুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরন বা বিশেষ কোনো ঘটনার সঙ্গে বিশেষণ যুক্ত হয়ে এসব নামের সৃষ্টি হয়। পরে মানুষ তাদের ওই নামেই ডাকতে শুরু করে। অনেক সময় অপরাধীরাও নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এসব নাম ব্যবহার করে।


