
১০ দল সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে-তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কোনো শাসনই দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সফল হয়নি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ডুমুরিয়া উপজেলার ১ নম্বর ধামালিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে আয়োজিত পথসভা ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি শাসনামলেই বিদেশে অর্থ পাচার, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা, রিমান্ড, ক্রসফায়ার ও দীর্ঘ কারাবাসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দলের লোকজন গুরুতর অপরাধ করেও সহজেই জামিন পেয়ে গেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই অন্যায় ও ইনজাস্টিসের অবসান ঘটাতে আমরা দেশবাসীর সামনে ‘নতুন বাংলাদেশ’ ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরছি। যেখানে থাকবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্থিতিশীল রাজনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার জন্য অনুকূল পরিবেশ।
তিনি সারা দেশে ১০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই আসনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, চরিত্র, নৈতিকতা ও সততার পরীক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে জাতির সঙ্গে পরীক্ষিত হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তিনি জানান, ইসলামী চেতনা, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী মোট ১০টি দল একত্রিত হয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যারা অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ব্যর্থ হয়নি বরং এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়নি।
তিনি আরও বলেন, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে অভূতপূর্ব জনসমর্থন ও গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই ধামালিয়া ইউনিয়নে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ শত শত মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন চেপে রাখা পানির মতোই জনতার এই জোয়ার এখন বাধ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। ভবথা, ডাকাতিয়া, সালাতিয়া, মধুগ্রাম, সাবাড়িয়া, ঘোষরা ও বাদুড়ি বিলসহ অসংখ্য বিলে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। নির্বাচিত হলে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া, তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মস্তানিমুক্ত জনপদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া–ফুলতলাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করা হবে।


