
চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জালাল মালিথা (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম জানান, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় বাস থেকে নামার পর্যায়ে জালাল মালিথার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার করে ইনজেকশন ছিল। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় জালাল মালিথার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিজের কাছে রাখা এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারকাজে চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাদক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, “এই রায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে।”


