সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
চীনের বাজার ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ | চ্যানেল খুলনা

চীনের বাজার ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ

চীনের অর্থনীতির গতিপথের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক গভীর। তবে এই সম্পর্ক শুধু আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিনির্ভর খাতেও দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পাশাপাশি এসব খাতের অগ্রগতিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

চীনের চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার। এসব তথ্যের দিকে নজর রাখছে বাংলাদেশও। প্রশ্ন হলো, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঢাকার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? এর উত্তর রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে।

প্রকাশিত কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীনের পণ্য আমদানি-রপ্তানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। টানা চার মাস ধরে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

এ সময়ে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি। এই প্রবণতা দেশটির বিদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি চীনের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

চীনের তৃতীয় প্রান্তিকের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়েও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও চীন ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে। একই সঙ্গে বিদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সুযোগ মূল্যায়নেও এই প্রবৃদ্ধির গতিপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে একই সঙ্গে দেশের ঋণঝুঁকির মাত্রা ‘নিম্ন’ থেকে ‘মধ্যম’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে সংস্থাটি।

রপ্তানি খাতেও চাপ রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে। আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জও বড়। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের সামনে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নতুন সরকার স্থিতিশীলতা থেকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এর একটি লক্ষ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি ৭৪২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও বিনিয়োগের উৎস নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশ একাধিক সহযোগিতার নথিতে স্বাক্ষর করে। চীন বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে সমর্থন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানায় দেশটি।

এসব খাত বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও সেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এসব খাতে বাস্তব বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা অবকাঠামো ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। যৌথ বিবৃতিতে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রাম চীন অর্থনৈতিক শিল্পপার্ক নির্মাণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম চীন অর্থনৈতিক শিল্পপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও প্রকল্পটিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শিল্পায়ন এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিল্পপার্কটির গুরুত্ব শুধু নতুন কারখানা স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও জড়িত। চীনের শিল্প খাতের অগ্রগতি ও বিদেশে বিনিয়োগের প্রবণতা তাই বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, গত দুই বছরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ কমেছে। এখন নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগকে আবার জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা। তিনি আরও বলেছেন, চীন ও চীনা বিনিয়োগের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জোরালো সমর্থন রয়েছে।

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশটির বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং বিদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আগ্রহকে প্রভাবিত করতে পারে। দেশটি যদি ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি রপ্তানির চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম, বাজার সম্পর্কে তথ্য এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

একইভাবে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ালে চট্টগ্রাম চীন অর্থনৈতিক শিল্পপার্কের মতো প্রকল্প নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ পেতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার আগ্রহ বাস্তব প্রকল্পে রূপ নিলে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পথও প্রসারিত হতে পারে।

এ সম্পর্ককে কেবল সহায়তার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই; এর কেন্দ্রে রয়েছে পারস্পরিক ব্যবসায়িক স্বার্থ। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানির বাজার ও শিল্পায়নের সুযোগ। অন্যদিকে, চীনের প্রয়োজন নতুন বাজার, বৈচিত্র্যময় সরবরাহব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল পারস্পরিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

চীনের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই আবাসন খাতের সংকট, বৈদেশিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও অভিযোজনক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের এই অর্থনীতি যদি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে তার প্রভাব ও সম্ভাবনা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার।

বাংলাদেশের জন্য চীন শুধু একটি বড় বাণিজ্য অংশীদার নয়; দেশটি অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় উৎসও। ফলে চীনের অর্থনীতির গতিপথ বাংলাদেশের বাজার, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

চীনের তৃতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশের পর দেশটির অর্থনীতির শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট নয়। চীন কী ধরনের পণ্য আমদানি করছে, কোন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং কী ধরনের অবকাঠামো ও শিল্প গড়ে তুলছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে চীনের অগ্রগতি এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কারণ, এসব প্রবণতার সঙ্গে দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ জড়িত।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

তথ্য প্রযুক্তি আরও সংবাদ

গুগলে যেসব ৫ বিষয়ে উত্তর খোঁজেন নারীরা

সেলুলার প্ল্যান ছাড়াই জরুরি সেবা পাওয়ার সুবিধা বন্ধ করছে গুগল

এক প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল জীবনের নানা সমাধান, এগিয়ে চলছে ShopnerBD

এআইয়ের সুফলের জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়ার কথা বললেন স্যাম অল্টম্যান

জন্মগত ঠোঁট-তালু কাটা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

টাওয়ার ছাড়াই ফোনে যোগাযোগ, কীভাবে কাজ করে আল্ট্রালিংক

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।