
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক সেবাসমূহের ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাপ্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে “ইনোভেটিভ আইডিয়া প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ ও ওয়ার্কশপ” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন টিমের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ. বি. এম. আওলাদ হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করা হয় এবং নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবনী ধারণা প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, “উদ্ভাবনই একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। প্রযুক্তি নির্ভর প্রশাসন, দক্ষ সেবা ব্যবস্থা এবং সৃজনশীল চিন্তার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামী দিনের স্মার্ট কুয়েট। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নতুন ধারণা ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কুয়েটকে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। আজ যারা নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মোট দুটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্যাটাগরিতে সেরা উদ্ভাবক হিসেবে নির্বাচিত হন আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারফান উপল। শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আখলাকুল ইসলাম ফাইম (রোল: ২২২১০৫৪)। প্রথম রানার-আপ হন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মিফতাহুল ইসলাম তাসীন (রোল: ২২০৫০৭৬)।
যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার-আপ হন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রাগীব আবিদ (রোল: ২৪১১০২১) এবং ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিকুজ্জামান রবিন (রোল: ২০০৯০৪৪)। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন। ইনোভেটিভ আইডিয়াগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোস্তফা জামান চৌধুরী এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ইনাম।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, হল প্রভোস্ট, চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি বিকাশ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


