সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
উপকূলে তীব্র পানিসংকট: পুকুরই ভরসা, শহরেও বাড়ছে দুর্ভোগ | চ্যানেল খুলনা

উপকূলে তীব্র পানিসংকট: পুকুরই ভরসা, শহরেও বাড়ছে দুর্ভোগ

খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে গরমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। শীতের প্রকোপ কাটতেই লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ায় অনেক এলাকায় নলকূপের পানি পান অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রধান ভরসা এখন পুকুরের পানি।

কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ খাওয়ার পানির জন্য পুকুরের ওপর নির্ভরশীল। দূরদূরান্ত থেকে নারীরা কলসে করে পানি সংগ্রহ করছেন। শুধু মহেশ্বরীপুর নয়, দক্ষিণ বেতকাশি, বাগালি, মহারাজপুর ও আমাদী ইউনিয়নেও লবণাক্ততার কারণে মিষ্টি পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পানিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাওসেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আরেফিন জানান, খুলনার ২২ শতাংশ, বাগেরহাটের ১৫ শতাংশ এবং সাতক্ষীরার ১৩ শতাংশ মানুষ বর্তমানে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, চিংড়ি চাষের বিস্তার এবং জলাভূমি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে আড়াই ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, “লবণাক্ততার কারণে টিউবওয়েলের পানিও খাওয়ার উপযোগী নয়। ১১টি গ্রামের মানুষ খোলা পুকুরের পানি ব্যবহার করছে। কেউ কেউ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে, আর বাকিদের দূর থেকে পানি আনতে হয়।”

এদিকে খুলনা নগরেও বাড়ছে পানির সংকট। ৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই শহরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিদিন গড়ে ২৪ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৮ থেকে ১১ কোটি লিটার। ফলে নিরালা, টুটপাড়া, নাজিরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ওয়াসার পাম্পে পানি উত্তোলনও কমে গেছে।

সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, “শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক সময় দূর থেকে রিকশায় বা হেঁটে পানি আনতে হচ্ছে।”

সমাধানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব এলাকায় নলকূপের পানি পানযোগ্য নয়, সেখানে মিনি ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা ওয়াসা বলছে, পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন হলে সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাইপলাইনের সংযোগ বাড়ানো হবে, তখন সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

পরিবেশ ও জলবায়ু আরও সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের এনসিইসিসি কমিটি

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডির যৌথ অঙ্গীকার

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে ডব্লিউইএফের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

দ্বিমুখী জলবায়ু সংকটের মুখে বিশ্ব

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।