
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য পথ বলে আবারও উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার বিকল্প নেই।
গুতেরেস লেখেন, “ফিলিস্তিনি, ইসরায়েলি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ হলো দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান।”
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে গুতেরেস এর আগেও একই অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, সহিংসতা এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ যেকোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।
গাজার যুদ্ধের পর সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা ও চাপ বাড়ার মধ্যেই গুতেরেসের এ বক্তব্য এলো। দীর্ঘ সংঘাতে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ এবং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। গুতেরেসের মতে, সামরিক পদক্ষেপ দিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়াই প্রয়োজন।


