
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধন ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
সভায় স্বাস্থ্য, আর্থিক খাত, সমাজকল্যাণ, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও বিমানবন্দর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ১৮৮ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ৮৭০ কোটি ১৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনও অনুমোদন করা হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে চলমান এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগে এ প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৫৮৪ কোটি ৪৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামে নতুন একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়ন ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
সমাজকল্যাণ খাতে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা। সমাজসেবা অধিদফতর ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পানি সম্পদ খাতে দুটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ ছাড়া মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার খাতে রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এসআরবির (সাবেক র্যাব) কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার টাকা। সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২১ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৯০ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৪৪ কোটি ৩০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ২ হাজার ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।
এদিকে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধনীও একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ১১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১৭ হাজার ৯৭ কোটি ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


