‘লাশ চুরির ভয়ে রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা’- ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর সংবাদটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা পোস্টে সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ছুটে যান টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার। ইউএনও ঘটনাস্থলে কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য স্থানীয় ২ জন গ্রাম পুলিশকে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং কবরস্থানটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কামারখারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খুকু, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান ও স্থানীয় ব্যক্তিরা। টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহামিনা আক্তার রাত ১০টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বলেন, যেদিন বজ্রপাতে ওই ছেলেটি মারা যায় সেদিনই আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে ওই পরিবারকে নগদ পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করি। আমি যখন যাই তখন মৃতের বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ওই বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের আমি বলে এসেছিলাম, কোনো প্রয়োজন হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কিন্তু তারা করেনি।
পরে আমি নিউজে দেখতে পাই বাবা তার ছেলের কবর পাহারা দিচ্ছে। দেখে আমি বুধবার সকালেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলি। পরে বিকেলে আমি টঙ্গীবাড়ি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারসহ ওই স্থানে গিয়ে উপস্থিত হই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি কবরস্থান কমিটিকে ডেকে ওই কবর পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কবরস্থানে লাইটের ব্যবস্থা না থাকায় আমি সন্ধ্যার মধ্যে লাইটের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি সেই সঙ্গে ওই কবরস্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করারও নির্দেশ দিয়েছি। তবে বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে সেই মরদেহের ‘ভ্যালু’ বেশি এরকম কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে মেডিকেল অফিসার ওই স্থানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে অবহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বজ্রপাতে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাইয়ার পার গ্রামে গরু আনতে গিয়ে কিশোর আরাফাত মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে বাড়ির পাশের কামারখাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু কবর থেকে লাশ চুরির ঘটনা ঘটতে পারে এতে আতঙ্কিত হয়ে ওই কিশোরের বাবা দিন-রাত কবরের পাশে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিতে শুরু করেন।


