
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিরপেক্ষ থাকার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা শফিকুর রহমান বলেন, বারো মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত একশত তেত্রিশটি অধ্যাদেশ সময়মতো নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশ আলোচনায় আসেনি। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুই মিনিটে সংসদীয় আলোচনা সম্ভব নয়, পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, বিপুল অর্থ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যাংক জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি আমানত রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাস্তবে লোডশেডিং ও ভোগান্তি চলছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে শিল্প ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্য বাড়ছে।
ডা শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা জরুরি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।


