
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। তবে রাতে ঘুমানোর আগে পানি পান করা উপকারী নাকি ক্ষতিকর—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে পানি পানের কিছু উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত পানি পান স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ঘুমানোর আগে পানি পানের উপকারিতা
রাতে ঘুমের সময়ও শরীর থেকে ঘাম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। তাই ঘুমানোর আগে পরিমিত পানি পান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ঘুমাতে সহায়ক হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচক অনুভূতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া হালকা গরম পানি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে, রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সহায়তা করে।
সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম পানি শারীরিক অস্বস্তি কমাতে এবং আরামদায়ক ঘুমে সহায়ক হতে পারে।
যেসব ঝুঁকি রয়েছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে **নকটুরিয়া (Nocturia)** বলা হয়।
রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। এর ফলে ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী, কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রোস্টেটের সমস্যায় ভোগা পুরুষ এবং মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা বেশি দেখা যায়।
এ ছাড়া স্ট্রোক বা স্মৃতিভ্রংশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের জটিলতা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে পানি বা অন্যান্য তরল পান শেষ করার চেষ্টা করুন।
দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
রাতে অতিরিক্ত লবণাক্ত, ঝাল ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
সন্ধ্যার পর চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করুন।
ঘুমানোর আগে অবশ্যই একবার প্রস্রাব করে বিছানায় যান।
চিকিৎসকদের মতে, তরল গ্রহণ কমানোর পরও যদি রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
সূত্র: Healthline, Sleep Foundation।


