
অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি বি কাগান ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁদের নাম ঘোষণা করে। ‘অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসে নন-লিনিয়ার ইফেক্টস ও অটো ক্যাটালিসিস’ আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
তাঁদের গবেষণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট ‘দর্পণ রূপ’ বা মিরর ইমেজ তৈরির পথ সহজ করেছে। এর ফলে ওষুধ, সুগন্ধি ও নতুন উপাদান তৈরিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিছু অণু, যেমন অ্যামিনো অ্যাসিড, একে অপরের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতো দুটি রূপে থাকতে পারে। বিষয়টি বোঝাতে ডান ও বাঁ হাতের উদাহরণ দেওয়া যায়—দুটি হাত দেখতে একই রকম হলেও একটির ওপর আরেকটি পুরোপুরি মেলে না। অণুর এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ‘কাইরালিটি’।
প্রকৃতিতে জীবদেহের অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্রতিবিম্বরূপই দেখা যায়। অথচ গবেষণাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রায়ই দুই রূপ সমানভাবে তৈরি হয়। প্রকৃতিতে কীভাবে একটি রূপ প্রাধান্য পেল, তা দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক রহস্য ছিল।
অঁরি কাগানের গবেষণা নির্দিষ্ট দর্পণ রূপ তৈরির জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের নতুন পথ দেখায়। অন্যদিকে কেনসো সোয়াই এমন একটি বিক্রিয়া উদ্ভাবন করেন, যেখানে সামান্য প্রাথমিক আধিপত্য নিজেই বাড়তে বাড়তে একটি নির্দিষ্ট দর্পণ রূপকে প্রাধান্য দিতে পারে।


