
ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো হামলায় নিহত ৮৪ জন ইরানি নাবিকের মরদেহ ইরানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। গত ৪ মার্চ যুদ্ধের মূল রণক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা ডুবিয়ে দেওয়ার নয় দিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুষারা রদ্রিগো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইরান থেকে পাঠানো একটি চার্টার্ড বিমানে করে আজ এই মরদেহগুলো ফেরত পাঠানো হবে। কলম্বোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও মরদেহগুলো ফেরত নেওয়ার বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।
গত ৪ মার্চ জাহাজটি ভারতের পূর্ব উপকূলীয় বন্দর থেকে ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছিল। ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে মার্কিন সাবমেরিন থেকে এটি লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়া হয়। হামলায় জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাগরে তলিয়ে যায় এবং এতে থাকা অন্তত ৮৪ জন প্রাণ হারান। জাহাজটিতে ১৮০ জন নৌসদস্য ছিলেন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নৌবাহিনী যে ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছিল, তারা আপাতত শ্রীলঙ্কাতেই অবস্থান করবে। আহত নাবিকদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মরদেহ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তারা জড়িত নয়।
ডেনা ডুবিয়ে দেওয়ার একদিন পর ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহরকে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কা জাহাজটিকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে এবং এর ২১৯ জন ক্রুকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
উদ্ধারকৃত ৩২ জন এবং বুশেহরের ২১৯ জনসহ বর্তমানে মোট ২৫১ জন ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে যে ২২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, তাঁদের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বুশেহর জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তা মেরামতের চেষ্টা করছে।
এদিকে, ইরানের আরেকটি জাহাজ শ্রীলঙ্কা অতিক্রম করে ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলের কোচি বন্দরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। ওই জাহাজের ১৮৩ জন ক্রু বর্তমানে ভারতের হেফাজতে রয়েছেন। কলম্বো এবং নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই জানিয়েছে, ‘মানবিক কারণে’ তারা ইরানি নাবিকদের আশ্রয় দিয়েছে, যাতে তাঁরা মার্কিন হামলার শিকার না হন।
শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত এবং বুশেহর-এর নাবিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়া হবে।


