
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য-প্রমাণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি এখন আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এসব নথি কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে মামলার নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে যথাযথ সিল ও স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হয়।
এর অংশ হিসেবে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলার দলিল অনুবাদের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘এনসিবি আবুধাবি’ বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে।
একাধিক বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সদর দপ্তর ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিরা প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। শুধু অভিযোগপত্র নয়, আদালতের আদেশ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত সব গুরুত্বপূর্ণ নথিও অনুবাদ করা হচ্ছে।
নথিগুলো প্রস্তুত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরে সেগুলো কূটনৈতিকভাবে আমিরাতের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হয়। এ সময়সীমা মেনে না চললে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুদক সূত্র জানায়, বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতির একাধিক মামলা রয়েছে। এগুলোর তথ্য-উপাত্ত একত্র করে প্রত্যর্পণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নথি প্রস্তুত সম্পন্ন হলে তা কূটনৈতিকভাবে পাঠানো হবে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেন এবং পরে ডিএমপি কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক ও আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১২ জুন ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


