
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মোঃ মোস্তফা শেখের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। শুভদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘরশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ গোলাম রসুল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গ্রাম পুলিশ মোঃ মোস্তফা শেখ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। গত ৯ই জুন-২০২৬ তারিখ রাত ১১টার দিকে ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক নারীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ওই মোস্তফা। বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ইতিপূর্বেও ১ নং ওয়ার্ডের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাছাড়াও শুভদিয়া ইউনিয়নের অপর এক চৌকিদারের বোনের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপের অপরাধে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
পূর্বে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোস্তফা শেখকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এলাকায় তিনি নিজেকে ‘লাইসেন্সধারী সরকারি মাস্তান’ পরিচয় দেন এবং জোরপূর্বক জুয়ার আসর বসিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এছাড়া গ্রামের গর্ভবতী মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড এবং সাধারণ দরিদ্র মানুষের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিপি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তিনি গ্রাম পুলিশের জেলা সভাপতি হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করে চলেছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আরও জানানো হয়, এই চরম অত্যাচার ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর যৌথ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ফকিরহাট মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে অনতিবিলম্বে এই অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।


