
বিজিবি ঢাকা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করা হবে। বিজিবি সদস্যরা কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে কর্নেল এস এম আবুল এহসান এসব কথা বলেন।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে সারা দেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দেশের ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই দেশব্যাপী বিস্তৃত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
কর্নেল আবুল এহসান আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে এসব ইউনিট। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত কেএন-৯ (K-9) ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনারা মহড়া চালাচ্ছেন, নির্বাচনে আপনারা কোনো শঙ্কা দেখেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, ‘নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন (প্রাণঘাতী) ব্যবহার করব না।’
নির্বাচনে আপনাদের কোনো হটলাইন আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের যে বেস ক্যাম্পগুলো রয়েছে সেগুলোর মোবাইল নম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষা অ্যাপ রয়েছে, সেখানেও কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জানাতে পারবেন।


