
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। আমর এলাকায় মা ও বোনদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করব।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দখলবাজি চলতে দেয়া হবে না। যারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ দখল করবে বা মামলা বাণিজ্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে কোনো ‘কার্ড’ তুলে দিয়ে তাদের অসম্মান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুবকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের আত্মমর্যাদাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। “গত ৫৪ টি বছর তিনটি রাজনৈতিক দল ও শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে বারবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। আমরা সেই বাংলাদেশ বদলে দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৩ তারিখ সূর্য উদিত হবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে ইনশাআল্লাহ।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনা-২ আসনের সোনালী ব্যাংক চত্বরে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালক প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় জনসভায় বক্তৃতা করেন মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, মিম মিরাজ হোসাইন, মাওলানা শাহরুল ইসলাম, মাওলানা শেখ মো. অলিউল্লাহ, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, যুববিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারী, খুলনা মহানগরী ছাশিবিরের সেক্রেটারি রাকিব হাসান, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, লবণচরা থানা আমীর মোজাফফর হোসেন, বি এল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, এডভোকেট আওসাফুর রহমান, এডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, এডভোকেট সেলিম আল আজাদ, এডভোকেট মাসুদুর রহমান, আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান নাঈম, শাহ মাহমুদুল হাসান জিকো, আমানত হালদার, মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, আবু পাঠান, আরিফুল হক মোল্লা প্রমুখ। পরে এক বিশাল গণমিছিল ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে শুরু হয়ে শিববাড়ি মোড়, ময়লাপোতা মোড় হয়ে রয়্যাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় রাস্তায় দুই পাশে থাকা পথচারী ও ব্যবসায়ীরা মিছিলকারীদেরকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘খুলনার সাধারণ মানুষ আর কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর কাছে জিম্মি থাকবে না। আমরা এমন এক প্রশাসন গড়ে তুলব, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে। দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘খুলনার উন্নয়ন কেবল রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানুষের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।’
তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিলে আমাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা বাণিজ্য আমরা ঘৃণা করি। কেউ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারো ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।


