
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তবে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে দুর্যোগের সময় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সহায়তা তুলে দেওয়া তাদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।’
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা শুকনা ও অন্যান্য খাবার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘তেরখাদার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করতে চাই। তেরখাদাকে শুধু উন্নত নয়, একটি মানবিক, নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
দুর্যোগের সময় দল-মত বা শ্রেণির পার্থক্য না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিপদের সময় মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কষ্ট না পায়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিপদে পড়া মানুষ নিজেকে একা মনে করবে না। দুর্যোগ আসার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
তেরখাদার মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তাহমিনা সুলতানা নীলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার-উল কুদ্দুস, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা বিএনপির সদস্য মো. আনিসুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা তুহিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্যসচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা মোল্লা মাহবুবুর রহমান, মো. ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, সরদার আব্দুল মান্নান, মো. সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমুল হক, মোল্যা হুমায়ুন কবির, বিএনপি নেতা মো. মিল্টন মুন্সী, মো. বিল্লাল হোসেন, এস কে নাসির আহমেদ, শেখ রাজু আহমেদ, মো. গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর বেগম, কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. সাবু মোল্যা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সোহাগ মুন্সী, সদস্যসচিব শামীম আহমেদ রমিজ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ টগর।
পরে প্রধান অতিথি এস কে আজিজুল বারী হেলাল দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুকনা ও অন্যান্য খাবার বিতরণ করেন। সহায়তা পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


