
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত বাংলাদেশ যখন দিশেহারা—ঠিক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির কাণ্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। সংকটের আঁধারে তিনি জাতিকে দেখিয়েছিলেন সাহস, শৃঙ্খলা ও সম্ভাবনার পথ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে যিনি পরিচিত হয়েছিলেন আপসহীন দেশপ্রেমিক হিসেবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি সেই দেশপ্রেমকে রূপ দেন কার্যকর রাষ্ট্রনায়কত্বে। ভগ্ন অর্থনীতি পুনর্গঠন, কৃষি ও উৎপাদনমুখী উন্নয়ন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং জাতীয় ঐক্য গঠনে তার ভূমিকা আজও ইতিহাসে অনন্য।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে “স্বাধীনতা, সার্বভৌমিত্ব ও গনতন্ত্র সুরক্ষায় শহিদ জিয়া” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন—স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক অর্জন নয়, এটি অর্থনৈতিক মুক্তি ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষকের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেন। দেশ যখন অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বহিঃচাপের মুখে নড়বড়ে, তখন দৃঢ় নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তিনি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে গতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতেও তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই দল কেবল একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদ হন এই মহান নেতা। তবে ঘাতকের বুলেট থামাতে পারেনি তার আদর্শ। আজও সংকটে-সংগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারিত হয় সাহসের প্রতীক, নেতৃত্বের মানদণ্ড ও দিশেহারা জাতির অনন্ত প্রেরণা হিসেবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখন জাতি পথ হারায়, তখনই জিয়াউর রহমানের মতো নেতারা দিশা দেখাতে জন্ম নেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির সবচেয়ে বড় বিপদের দিনে মুক্তিপাগল দিশেহারা জনগণের কাছে একটি “অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর” তাদের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে জাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে ভেসে এসেছিল একটি কণ্ঠস্বর ‘আমি মেজর জিয়া বলছি।’ সেই কণ্ঠ সেদিন অযুত প্রাণে নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র এনে দিয়েছিল। মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে দিশেহারা গোটা জাতি। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি…বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’- তাঁর এই অবিস্মরণীয় অবিনাশী ঘোষণায় পথহারা মুক্তিকামী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে। জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেজর জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের এদেশীয় চরেরা ষড়যন্ত্র করে জিয়াউর রহমানকে বন্দী করে। কিন্তু ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সিপাহী-জনতা তাঁকে মুক্ত করেন। সে সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতৃত্বশূন্য জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয় সৈনিক-জনতা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির চরম অধঃপতনের সময়ে মহান দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তলাবিহীন ঝুড়ির বদনামমুক্ত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেন।
বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক এড. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বেগম রেহানা ঈসা। সভার শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের জীবনীর উপর নিবন্ধন পাঠ করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন ওলামাদলের নেতা আবু নাঈম।
সভায় খুলনা মহানগর, থানা, ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পুর্বনির্ধারিত প্রধান অতিথি বিশিষ্ট কবি আব্দুল হাই শিকদার খুলনায় এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তার সুস্থতা কমনা করা হয়।


