
ফ্রান্সের প্যারিসে ২০১৬ সালে বন্দুকধারীদের হাতে ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান। ওই মামলার রায়ে তাকে প্রতীকী হিসেবে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত।
কিম নিজেই ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। আদালত তার সেই দাবিই মঞ্জুর করেছেন।
২০১৬ সালের ওই ডাকাতির ঘটনায় ২০২৫ সালে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সে সময় কিম ঘটনাটিকে তার জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
রায়ের পর কিম কার্দাশিয়ান এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচ ফরাসি বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘এই ঘটনার ট্রমা আজও আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় টাকার অঙ্কের জন্য নয়, বরং এটি অপরাধের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়। আদালত এবং যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা এখন এই খারাপ সময় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
যে হোটেলে—হোটেল দ্য পুরতালেসে—ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানকার এক সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইকের সময় কিমের প্রায় ৬০ লাখ ডলার মূল্যের গয়না লুটের ঘটনায় ওই কর্মী মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
কিমের আইনজীবী এই রায়কে বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া কিমের স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচকে তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যা ঘটেছিল সেদিন
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশের পরিচয়ে দুই ডাকাত কিম কার্দাশিয়ানের হোটেলকক্ষে ঢুকে পড়ে। এরপর তাকে টেপ ও জিপ টাই দিয়ে বেঁধে প্রায় ৬০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের গয়না ও হীরা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দলটি ফ্রান্সে ‘লে পাপিস ব্রাক্যুর’ বা ‘দাদাদের ডাকাত দল’ নামে পরিচিতি পায়। বিচারের আওতায় আসা ছয়জনের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হওয়ায় তাদের এমন নাম দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের কাউকেই নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। কারণ, তারা এরই মধ্যে হাজতে থাকা সময় সাজা হিসেবে ভোগ করেছিলেন। রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিলও করেননি।


