
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার জবাবে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, তিনি রাজনীতিক নন, বরং শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর দায়িত্ব।
আলজেরিয়া সফরে যাওয়ার আগে পাপাল বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনকে আমি ভয় পাই না কিংবা সুসমাচারের বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে দ্বিধা করি না। এটাই আমার দায়িত্ব, এটাই চার্চের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজনীতিক নই। আমরা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করি না, যেভাবে ট্রাম্প বুঝতে পারেন। তবে শান্তির দূত হিসেবে আমি সুসমাচারের বার্তায় বিশ্বাস করি।”
ক্যাথলিক সংবাদমাধ্যম আওয়ার সানডে ভিজিটর-এর এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপের এই মন্তব্য প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোপ লিওকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ এবং ‘দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি পোপ লিওর ভক্ত নন এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানকে ‘ভয়াবহ’ বলে দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, পোপ কেবল মার্কিন বংশোদ্ভূত বলেই এই পদ পেয়েছেন এবং তিনি চরম বামপন্থীদের তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিয়ে পোপ লিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জের ধরেই ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প বলেন, “আমি এমন একজন পোপ চাই না, যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে।”
এদিকে এই বাগ্যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাঁকে যিশুখ্রিষ্টের মতো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তির ওপর হাত রেখে তাকে সুস্থ করছেন। এই ছবি এবং যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের কর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি মার্কিন ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।


