
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় সংগীতকে ঘিরে জনপ্রতিনিধিদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ গোটা জাতির স্বাধীনতার চেতনা ও মর্যাদা বোধের ওপর আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ দেড় বছর পর গতকাল ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। জনগণ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার ম্যান্ডেট দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছে। কিন্তু অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে নিজ নিজ আসনে বসে থেকে জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেছেন, যা গোটা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।
নেতারা বলেন, ‘জাতীয় সংগীত আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার অন্যতম প্রধান প্রতীক। এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সামষ্টিক পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মৌলিক প্রকাশ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনেই এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জাতীয় মর্যাদার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণ দেশের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা ও যোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ভবিষ্যতে জাতীয় সংগীতসহ অন্যান্য জাতীয় প্রতীকের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর সব ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


