
কোরবানির পশু বিক্রির সুবিধার্থে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার মোট ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হচ্ছে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের আর দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা তাদের খামার থেকে এই হাটগুলোতে পশু আনতে শুরু করেছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় হাটগুলো স্থাপন করছে। যা ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চালু থাকবে।
১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জোরাগেট হাটসহ অন্তত ২৭টি খুলনায় স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়াও, বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় আটটি এবং মেহেরপুরে ছয়টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বলেন, ‘খুলনার ১০ জেলার ৫৯টি উপজেলাসহ কেসিসি-র ভেতরেও গবাদি পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, পশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪২টি পশু চিকিৎসা দল হাটে দায়িত্ব পালন করবে।’
এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় ভাবে পালিত পশু দিয়ে মেটানো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
জোরাগেট পশুর হাটের কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সিসিটিভি নজরদারি স্থাপন, মেডিকেল টিম মোতায়েন এবং জাল মুদ্রা শনাক্তকরণে সেবা প্রদান করবে বলে জানান কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।
ডুমুরিয়া উপজেলার বালিয়াখালী গ্রামের গবাদি পশু খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পশুখাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি হতে পারে।’
ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের দুগ্ধ খামারের মালিক মিন্টু খান বলেন, ‘আমি এ বছর ১৮টি গরু ও ২৬টি ছাগল পালন করেছি এবং ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছি। পশুখাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর গরুর দাম সামান্য বেশি হতে পারে।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার। তবে, কৃষকরা ঈদকে সামনে রেখে চাহিদাকে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৪ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি পশু পালন করেছেন।
এই বিভাগে পালিত পশুর বিবরণে রয়েছে, ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯৬১টি গরু, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং ২১৬টি অন্যান্য প্রাণী।
গত বছর বিভাগজুড়ে মোট ১৬৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছিল এবং ১৫২টি পশু চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছিল। ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার চাহিদার বিপরীতে মোট ১৪ লক্ষ ৩৪ হাজার কোরবানির পশু পালন করা হয়েছিল।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঈদ-উল-আজহার আগেই ১১ লক্ষেরও বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল।


