নির্ভীক ব্যাটিং করে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। জাসপ্রিত বুমরাহ, জোফরা আর্চার, ট্রেন্ট বোল্ট ও জশ হ্যাজলউডের মতো হাল আমলের সেরা বোলারদের প্রথম বল থেকেই যেভাবে তিনি আক্রমণ করছেন, তা অবিশ্বাস্য ঠেকেছে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছে। ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার চলমান আইপিএলের দুটি ম্যাচে স্রেফ ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। এমনকি নিজের নামটা তুলেছেন রানসংগ্রাহকদের চূড়ায়।
রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনারকে দেখে একইসঙ্গে বিস্মিত ও শুভকামনা জানিয়েছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ড, ‘আমার বয়স যখন ১৫ বছর, তখনও স্কুলে ছিলাম, পাশাপাশি ক্লাব ক্রিকেট খেলি। তবে সেটি রোমাঞ্চকর ছিল। এখন বিশ্বের সামনে ওই বয়সী কাউকে ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলতে দেখা আরও বেশি রোমাঞ্চকর। সে তার তারুণ্যের উচ্ছ্বাসকে নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করছে এবং তার জন্য এটা যেন দীর্ঘকাল বজায় থাকে। আর জানেনই তো, ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও।’
অল্প সময়ে জনপ্রিয় হওয়া নিয়ে সতর্কতাও দিয়েছেন সাবেক এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার, ‘আমরা ক্রমাগত প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করছি। আমাদের শুধু তাকে উৎসাহিত করে যেতে হবে। আমি সবসময় একটা কথা বলি, সে যখন এখানে থাকে, তখন যেন আমরা তার জনপ্রিয়তার স্রোতে গা না ভাসাই। আর যদি দুয়েকটা ব্যর্থতা আসে এবং খেলোয়াড়রা তাকে বুঝে ফেলে, তখন আমরা তাকে পথ থেকে ছেঁটে ফেলি। তার অতীতের কথা পুরোপুরি ভুলে যাই। আমার মনে হয়, একজন ক্রিকেটার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভয় যে আমরা সবাই অতিপ্রচারণায় না ভেসে যাই।’
পোলার্ড কথাগুলো বলছিলেন তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে। অথচ সেখানেও জায়গা করে নিলো ভারতীয় বিস্ময়বালক সূর্যবংশী। স্বাভাবিকভাবেই তার নামটি এখন মুখে মুখে ফিরছে। সর্বশেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে রাজস্থান রয়্যালসকে জেতানোর ম্যাচে কিশোর এই ব্যাটার খেললেন ২৬ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। হাঁকিয়েছেন ৮ চার ও ৭ ছক্কা। আইপিএলের চলতি আসরে সূর্যবংশী চার ইনিংসে যথাক্রমে ৫২, ৩১, ৩৯ ও ৭৮ রান করেছেন। ২৬৬ স্ট্রাইকরেট এবং ৫০ গড়ে ৪ ইনিংস শেষে তার রান ২০০ (এখন পর্যন্ত সবার শীর্ষে)।
পোলার্ড কথা বলেছেন আসন্ন ম্যাচের প্রতিপক্ষ দুই তারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে নিয়েও। তারা আজ (রোববার) পরস্পরের মুখোমুখি হবেন। মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচের মতে– ‘লম্বা সময় ধরে খেলা নিয়ে সবারই নিজস্ব প্রেরণার বিষয় থাকে। আপনি ৩৮-৩৯ বয়স নিয়ে বলছেন, অথচ বিশ্বের কোথাও না কোথাও ইমরান তাহির খেলছেন, যার বয়স প্রায় ৪৬-৪৭। (মহেন্দ্র সিং) ধোনিও খেলছেন ৪৪ বছর বয়সে। আমিও ৩৯ বয়সে (ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে) খেলা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব ক্ষেত্রে ভিন্ন বিষয় প্রেরণা থাকে। এই ক্রিকেটাররা সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটের জন্য ভালো করছেন, কিন্তু আমরা তাদের বয়স দেখে বলে দিচ্ছি এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে।’
‘আমি বিশ্বাস করি– যে খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, তাদের সম্মান জানানো উচিত। কখন (অবসরের) সময় হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে দেওয়া উচিত। আপনার মতে এটা একটা রোহিত-কোহলি শো। আমি এটাকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম আরসিবি হিসেবে দেখি এবং ব্যক্তিগতভাবে তারা (কোহলি-রোহিত) জীবনের এই অংশটা উপভোগ করুক। তারা এখনও পারফর্ম করছে, ভালো খেলছে। যদি প্রত্যাশা মেটাতে না পারে তবুও সিদ্ধান্তের ভারটা তাদের হাতে থাকুক। পরবর্তী ১০-১৫ বছরের জন্য যারা সুপারস্টার হবে, তাদের পথ দেখানোর জন্য হলেও এমন অভিজ্ঞদের দরকার’, আরও যোগ করেন পোলার্ড।


