সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের এক বছরেই ফের ভরাট ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও শালতা নদী | চ্যানেল খুলনা

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে

৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের এক বছরেই ফের ভরাট ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও শালতা নদী

চ্যানেল খুলনা ডেস্কঃজলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের মাত্র এক বছরেই ফের ভরাট হয়ে গেছে ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা ও শালতা নদী। ফলে নদী খননের যে আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল তা পুরো ভেস্তে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, খর্ণিয়ার তেলিগাতি ও টিয়াবুনিয়া বাঁধ কেটে দেয়াতে পানির সাথে পলি এসে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পলি অপসারণে ড্রেজিং-এর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছর আগেও ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা-শালতা নদী ঘিরে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চলতো। জোয়ার-ভাটা, মাছ শিকার ও নৌ-যান চলাচল ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক চিত্র। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ছিল নদী দু’টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু কালের বিবর্তমানে ও নানা প্রতিকুলতার মুখে ভদ্রা ও শালতা নদীতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পলিপড়ে নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যায়। আর ভরাটের সাথে সাথে নদীর বুক জুড়ে শুরু হয় অবৈধ দখল। প্রভাবশালীরা যে যার মত করে ভরাট হওয়া নদীর বুক দখল করে নেয়। দখলবাজ চক্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভরাট হওয়া জমিতে গড়ে তোলে বসত বাড়ি, রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। ফলে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় করুণ পরিণতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক বসত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এমন সব পরিস্থিতিতে ২০০৫ সালে নদী দু’টি খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়ে। এরপর ফের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ওই নদী দু’টি খননের জন্য ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) জমা দেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যার বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর।
জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজগুলো পায় ও বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমিন এ্যান্ড কোং, হাসান এ্যান্ড ব্রাদার্স, কেএসএল জেভি, রানা বিল্ডার্স, সালেহ আহমেদ ও কামরুল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী ভদ্রা নদী দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তারাংশের তেলিগাতি হতে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন করে। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন করে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করে।
এলাকাবাসী জানায়, এস্টিমেট অনুযায়ী নদীর প্রস্থ ১২০ ফুট এবং গভীরতা ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত খননের কথা ছিল। কিন্তু সব জায়গায় এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া মাটি উত্তোলন করে দু’পাশে রেখে দেয়া হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই পাশের উঁচু করে রাখা ওই মাটি ধুয়ে ফের নদীতে এসে পড়েছে। তাছাড়া প্রকল্পের অন্যতম অঙ্গ দিঘলিয়া ও তেলিগাতি প্রান্তে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের দু’টি স্লুইচগেট নির্মাণের কথা থাকলেও ওই দু’টি স্লুইচ গেট নির্মাণ না করেই কাজ সমাপ্ত করা হয়। সঙ্গতকারণে মোটা অঙ্কের ওই টাকা মন্ত্রণালয়েই ফেরত গেছে। যার ফলশ্র“তিতে জোয়ার-ভাটায় মাত্র এক বছরই পলিতে নদী ফের ভরাট হয়ে গেছে।  তারা আরও জানান, বর্তমানে লবণ পানি প্রবেশ করায় কৃষি কাজেও নদীর পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে নদী খননের ব্যয় হওয়া পুরো টাকা পানিতে গেছে। আর নদী খননের আসল যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো সেটিও পুরো ভেস্তে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নদী খনন সব জায়গায়ই নিয়মমাফিক হয়েছে। টাস্কফোর্স-এর মাধ্যমে সব যাচাই-বাচাই করে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
ভরাটের ব্যাপারে তিনি বলেন, খর্ণিয়ার তেলিগাতি ও টিয়াবুনিয়া বাঁধ কেটে দেয়াতে পানির সাথে পলি এসে নদী ভরাট করে ফেলেছে। তবে দ্বিতীয় ফেজে ১৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আইডাব্লুএম এ প্রকল্প নিয়ে স্টাডি করছে। এ প্রকল্পের আওতায় হামকুড়া নদী খনন করা হবে। সেখানে পলি অপসারণে ড্রেজিং-এর পরিকল্পনা রয়েছে।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

সংবাদ প্রতিদিন আরও সংবাদ

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নারী দালাল আটক

টঙ্গীতে দুই সন্তানকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

বড় ভাইকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল করে যুবকের আত্মসমর্পণ

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় বৃদ্ধকে হাতেনাতে ধরলেন স্থানীয়রা

স্ত্রী বাইরে যাওয়ার সুযোগে মেয়েকে ধর্ষণ করেন সৎবাবা

হঠাৎ বিস্ফোরণে বাজারে আতঙ্ক, স্থানীয়দের দাবি গুপ্ত হামলা

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।