
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খুলনা সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও নগরবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে এবার প্রচলিত রীতিতে তোরণ, ব্যানার ও প্লাকার্ডে শহর ঢেকে না ফেলে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ আয়োজন সামনে রেখে প্রতিদিন চলছে সভা, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। নেতাকর্মীদের লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ এড়িয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে বড় পরিসরে সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড় পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ এবং তৃণমূল থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসেন। তাই তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে খুলনাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস রয়েছে। সফর উপলক্ষে শহর পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যেও অনুষ্ঠানটি নিয়ে আনন্দ-উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দেশবাসী খুলনা শহরের নতুন রূপ দেখতে পাবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা আগমন নগরবাসীর জন্য আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। এ সফরকে কেন্দ্র করে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর যত বাড়বে, খুলনার উন্নয়ন তত ত্বরান্বিত হবে বলে তাঁরা আশা করেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কে খুলনাবাসী পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তোরণ-ব্যানারে শহর ঢেকে না ফেলে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার উদ্যোগ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী বলেন, খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁকে কাছ থেকে কিংবা দূর থেকে একনজর দেখার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে। এ আসরে অংশ নিতে ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী নিবন্ধন করেছেন। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার।
নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের হিসাবে, এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এ বৃহৎ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।


