
বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট ও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকারক ও অপারেটর কোম্পানি থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ঢাকার হাতিরপুলে এক বিক্রেতা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। মিরপুরে দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। মুন্সীগঞ্জেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
বিইআরসির নির্ধারিত হিসাবে, ডিলার পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪২ টাকা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মুনাফা যোগ করে গ্রাহক পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে ডিলারদের অভিযোগ, অপারেটররা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। আমদানি কাছাকাছি থাকলেও বাজারে সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অপারেটরদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও আমদানিসংক্রান্ত জটিলতায় খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে।
এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বিইআরসিও সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করেছে। তবে বাজারে নির্ধারিত দাম নিশ্চিত না হওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।


