
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও জীবিত আছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়া পাইক। বর্তমানে তার জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন বলে বুধবার (৭ অক্টোবর) জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রিস্টিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে দুটি বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে এতে তার মৃত্যু না হওয়ায় এবং তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ক্রিস্টিয়ার হাতে এখনো হ্যান্ডকাফ ও শিকল পরানো রয়েছে। তিনি সাধারণ কথাবার্তা বলতে পারছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা এবং তাকে ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়টি তার মনে নেই।
চিকিৎসক জোয়েল জিভত বলেন, ক্রিস্টিয়া হাসপাতালে থাকার কথা মনে করতে পারছেন। নিজের নামও বলতে পেরেছেন। তবে মাসের নাম জানতে চাইলে তিনি সেপ্টেম্বর বলেছেন, যদিও বর্তমানে অক্টোবর। অর্থাৎ সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনা তার স্মৃতিতে নেই।
১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে হত্যার দায়ে ক্রিস্টিয়া দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় ৩২ বছর ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল নাকচ করার পর এবং টেনেসির গভর্নর ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ক্রিস্টিয়ার আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা তার দ্রুত জ্ঞান ফেরাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। ফোর্ডহাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিদ দেবোরাহ ডেন্নো বলেন, ক্রিস্টিয়ার জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি কথা বলছেন—এ ঘটনায় তিনি ‘পুরোপুরি বিস্মিত’।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রিস্টিয়ার ঘটনা বিরল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর তার পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।


