সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল খুলনা

জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগের শক্তিশালী কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নীতিগত নিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিভার্সেল কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়; শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তির উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

কৃষিকে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ আরও সহজ করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত অর্থেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরিতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে এবং পারস্পরিকভাবে সমান সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সিজিএস আয়োজিত এবারের সম্মেলনে ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা; বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি; এবং জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

প্রধানমন্ত্রী কর্নার আরও সংবাদ

জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’: ফেনীতে তারেক রহমান

১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকায় ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব

নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।