
খুলনা মহানগরীকে নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এ কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে শিশুশ্রম, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যক্রমের সফলতা উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-১ ও ২-এর আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন কিছু করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী খুলনায় বিজ্ঞানভিত্তিক পার্ক ও নভোথিয়েটার নির্মাণে টেক্সটাইল মিলের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২১টি মাঠ ও ছোট আকারের ফুটসাল মাঠ নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিশুদের মোবাইল ফোনে আসক্তি ও কিশোরদের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে বলেও মন্তব্য করেন কেসিসি প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডে শিশুশ্রমে যুক্ত ১২৯ জন শিশু রয়েছে। ১২টি ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে ৫৪২ জন শিশু। এ ছাড়া ১৩টি ওয়ার্ডে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা ২৭৩ জন।
অনুষ্ঠানে ১২টি ওয়ার্ডকে বাল্যবিবাহমুক্ত, ৮টি ওয়ার্ডকে শিশুশ্রমমুক্ত এবং ১৩টি ওয়ার্ডকে স্কুলবহির্ভূত শিশুমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ডগুলো হলো—৪, ৫, ৬, ১৫, ১৭, ১৮, ১৯, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড।
শিশুশ্রমমুক্ত ওয়ার্ডগুলো হলো—২, ৪, ৯, ১৪, ১৮, ২০, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড।
স্কুলবহির্ভূত শিশুমুক্ত ওয়ার্ডগুলো হলো—৪, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ২৫, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড।
কেসিসি প্রশাসক এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি এর পরিধি আরও বাড়াতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অফিসার সুরভী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, এশিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-খুলনার অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, সিএসএসের পরিচালক (শিক্ষা) ডেভিড থমাস গোমেজ, থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহিনুর রহমান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এসআই শাহানারা খাতুন শানুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


