বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যকে অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কপ-৩১ প্রেসিডেন্ট-ডিজিগনেট মুরাত কুরুম। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্য অর্জনের পথ কঠিন হয়ে উঠলেও দিক পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বুধবার জেনেভায় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) একটি উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “সামনের পথ আরও কঠিন হতে পারে, কিন্তু আমাদের দিক পরিবর্তন করা যাবে না। ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যই আমাদের কম্পাস।”
মুরাত কুরুম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিজ্ঞান ও কার্যক্রমের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, “কপ-৩১ প্রেসিডেন্সি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো মানবজাতির অর্জিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সুরক্ষিত রাখা। বিজ্ঞান ও কার্যক্রমের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করা এখন ব্যাপকভাবে অনিবার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে তা সীমিত করা, অতিরিক্ত উষ্ণতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা নিরাপদ মাত্রায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ এখনও রয়েছে।
WMO-এর তথ্য তুলে ধরে কুরুম বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থা বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে অস্থিতিশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রেকর্ড তাপমাত্রা, খরার ঝুঁকি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং ২০২৬ সালের শেষ দিকে নতুন এল নিনোর সতর্কতার বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহজনিত বন্যার উদাহরণ দেন কপ-৩১ প্রেসিডেন্ট-ডিজিগনেট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজার ১৩০ জনের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ।
কুরুম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আকস্মিক দুর্যোগে সীমাবদ্ধ নয়। ভূমির অবক্ষয়, খরা, বন্যা ও দাবানলের মতো ধীরগতির ও চরম আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করছে।
তুরস্কের আবহাওয়ার সাম্প্রতিক অস্বাভাবিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত এবং ২০২৬ সালে ৬৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
কুরুম বলেন, এসব ঘটনা আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির বাস্তব প্রভাব সামনে নিয়ে আসে, যার সঙ্গে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষক, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি WMO-এর ‘Early Warnings for All’ উদ্যোগের প্রতি তুরস্কের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, নির্ভুল পর্যবেক্ষণ, নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস এবং সময়মতো সতর্কবার্তা এখন বিশ্বের মৌলিক মানবনিরাপত্তার প্রয়োজনগুলোর অন্যতম।
তিনি বলেন, সাফল্য শুধু তথ্য প্রকাশে নয়, সেই তথ্য কত দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। বিজ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে।
আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বিজ্ঞান নিয়ে একটি বিশেষ থিম্যাটিক ডে আয়োজনের ঘোষণার পর মুরাত কুরুম জেনেভায় এসব মন্তব্য করলেন।


