
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মুসলমানসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য হতে পারে অনন্য প্রেরণার উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার জীবন ও কর্ম আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর জীবনকে উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মহানবী (সা.) সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও দয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, জাতি, বর্ণ, গোত্র ও সামাজিক বিভেদ দূর করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের মতো সংকটের মধ্যে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়, বরং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তার আদর্শ অনুসরণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক যেন সবাইকে দান করা হয় এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি, ন্যায়, সাম্য ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হয়।


