
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামছে মিশর। দলটির সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ হলেও এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার **হামজা আবদেলকরিম**। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই এখন মিশরীয়দের বড় আশা।
ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে হামজা বলেছেন, “আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, মেসির বিপক্ষে নয়।” তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান হামজা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে তিনি মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ অভিষিক্ত ফুটবলার হওয়ার কীর্তিও গড়েন।
২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি কায়রোতে জন্ম নেওয়া হামজার ফুটবল যাত্রা শুরু হয় মালয়েশিয়ায়, যেখানে তার বাবা ভলিবল কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালে মিশরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আল আহলির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। এরপর দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ২০২৫ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আল আহলির মূল দলে অভিষেক করে ক্লাবটির চলতি শতাব্দীর সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন।
অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ১২ গোল করার পর ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন হামজা। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে বার্সেলোনা তাকে ‘বার্সেলোনা বি’ দলে ভেড়ায়। প্রথম ম্যাচেই মাত্র ১৫ মিনিটে হেডে হ্যাটট্রিক করে দলকে শিরোপা জিতিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। পরে ১১ ম্যাচে ৮ গোল করার পর ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় কাতালান ক্লাবটি।
মিশরের সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই তাকে ‘নতুন সালাহ’ নামে অভিহিত করছে। তবে হামজা বলছেন, সালাহই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
“সালাহ শুধু আমার নয়, পুরো দলের মেন্টর। তিনি সব সময় নিজের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তার পাশে খেলতে পারা আমার জন্য স্বপ্ন পূরণের মতো।”
বিশ্বকাপে মিশরের একমাত্র খাঁটি স্ট্রাইকার হিসেবে আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় দায়িত্ব থাকবে হামজার কাঁধে। তরুণ এই ফরোয়ার্ড কি পারবেন মেসিদের রক্ষণভাগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।


